April 18, 2026, 2:22 pm

২৩ বছরে সর্বোচ্চ সুদহার নিয়েও চাঙা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি

২৩ বছরে সর্বোচ্চ সুদহার নিয়েও চাঙা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি

ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার থেকে। গত দুই বছর আগ্রাসীভাবে নীতি সুদহার বৃদ্ধির কারণে তা এখন গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার এখন কম; দেশটির শেয়ারবাজার একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। মন্দার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না মার্কিন অর্থনীতিতে। বরং বিশ্বের মধ্যে মার্কিন অর্থনীতি বেশ চাঙা।

অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে, ফেডারেল রিজার্ভ বা বিশ্বের যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার বৃদ্ধির অর্থ হলো, মন্দার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। এর আগে, সুদহার বৃদ্ধির কারণে মার্কিন অর্থনীতি চাপে পড়েছিল; কিন্তু এবার তেমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সুদহার বেশি থাকার পরও মার্কিন অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, এর এর কারণ হলো, করোনা মহামারির সময় বাড়ির মালিকেরা যে অতি নিম্ন হারে বন্ধক রেখে পুনঃঅর্থায়নের সুবিধা পেয়েছিলেন, সেটি। ফেডারেল রিজার্ভ তখন বন্ধকের সুদহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিল। এছাড়া, গত কয়েক বছরে মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক ভিত্তি নানাভাবে শক্তিশালী হয়েছে, সে কারণে তাদের হাতে এখন সঞ্চয় আছে এবং খুব একটা ঋণ করতে হচ্ছে না।

গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেছিলেন, গত দুই বছর আগ্রাসীভাবে নীতি সুদহার বাড়ানো দরকার ছিল, এমনকি তাতে মার্কিন নাগরিকদের কিছু ক্ষতি হলেও।

এর আগে, যতবার নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে, ততবার একই কাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু এবার তা হয়নি। অর্থনীতিবিদেরা বিস্মিত হলেও তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন নাগরিকেরা মন্দার কবলে পড়েননি।

মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল হাতিয়ার হলো নীতি সুদহার নির্ধারণ। এই সুদহারের দ্বারা ঋণের সুদহার নির্ধারিত হয়। অর্থনীতির গতি কমানোর প্রয়োজন হলে ফেড বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হাতিয়ার প্রয়োগ করে, অর্থাৎ নীতি সুদহার বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com